বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক বরিশাল নগরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর জায়গার সীমানা নির্ধারনের কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ শুরু হওয়ার পরপরই কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী বরিশাল নগরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মাঝে স্থাপনা হারানোসহ ভাঙ্গা’র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যার ধারাবাহিকতায় আতঙ্ক ও নগরের ৬ টি (৫, ৬,৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের বিশেষ অংশ রক্ষার দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসি।

রোববার (১২ জানুয়ারি) ‍দুপুরে সিটি করপোরেশনের এ্যানেক্স ভবনে গিয়ে এলাবাসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে দেখা করেন ও তার কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

এসময় মেয়র স্থানীয়দের আতঙ্কিত ও বিচলিত না হওয়ার জন্য বলেন। পাশাপাশি সবাইকে ধৈর্য্য ধারন করার আহবান জানিয়ে বলেন বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে তিনি কথা বলবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

এদিকে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডটি বরিশাল পৌরসভা পরবর্তীতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি পুরাতন ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। ওই এলাকায় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজারের অধিক এবং এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি, মাদ্রাসা প্রায় ১৪টি, মসজিদ ১৯টি রয়েছে। এই এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধানগবেষনা, সিটি কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠান হিসাবে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, একাধিক বিশুদ্ধ পানির পাম্প, ময়লা পরিশোধনাগার, বিদ্যুৎ বিভাগের ওজোপাডিকো লিঃ এর পাওয়ার হাউজ এবং বরিশালে ২য় বৃহত্তম কাজীর গোরস্থানের অবস্থান। যেখানে ঘনবসতি পূর্ণ ৯টি কলোনীতে হাজার হাজার লোকের বসবাস। পাকা, আধাপাকা, কাচা ঘরের সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। আমারা এলাকাবাসী যুগ যুগ ধরে শাস্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছি। আমাদের এই পাচ নং ওয়ার্ডেটি ভূমি মন্ত্রণালয় এর দুটি মৌজায় বিভক্ত যা আমানতগঞ্জ ও চরবদনা মৌজার অন্তর্ভূক্ত।

অত্র এলাকাবাসি সরকারি আইন অনুসারে ভূমি কর, সিটি কর্পোরেশনের পৌর কর, পানির বিল নিয়োমিত ভাবে পরিশোধ করে আসিতেছি। কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন পূর্বে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানামতে হাই কোর্টের একটি রায় নিয়ে ১১৭ বছর পূর্বের সি.এস পর্চা অনুযায়ী নদীর সীমানা পুনঃ নির্ধারণ করার কাজ করে।কিন্তু নির্ধারিত সীমানায় দেখা যায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৫নং ওয়ার্ড, ৬নং ওয়ার্ডের ২/৩ অংশ এবং ৮,৯,১০,১১ নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু অংশ তাদের সীমানানির্ধারনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। যারমধ্যে সরকারে অনেক প্রতিষ্ঠান সহ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সীমানা নির্ধারণ করার ফলে নির্ধারিত সীমানার লক্ষাধিক জনগন উচ্ছেদ আতংকে দিন যাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আঃ সালাম জানান, নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র লোকজন মাপঝোক দিচ্ছে এবং সীমানা নির্ধারণ করে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন দেয়ার কাজও করছে। যা নিয়ে আতঙ্ক দিনে দিনে বাড়ছে। তাই আমরা আজ আমরা মেয়রের কাছে এসেছি। তার কাছে আমরা এলাকাবাসী অনাকাংক্ষিত উচ্ছেদ আতংক থেকে মুক্তি পেয়ে পূর্বের ন্যয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে এলাকায় বসাবার করতে পারি তার ব্যবস্থা চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here