পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এমাদুল হক বাদশার ছেলে সেনা সদস্য (কর্পোরেল) মো. শহিদুল ইসলাম (৩৪) বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা সিএইচএমএ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুত্যু বরণ করেন।

বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর একটি বিমানে করে আজ শুক্রবার তার মরদেহ নিজ উপজেলা ভান্ডারিয়ায় নিয়ে আসা হয়।

বিমানটি দুপুরে স্থানীয় বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবতরন করার পরে এ উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রাদুর্ভাব রোধে জনসচেতনতার প্রচারণায় নিযুক্ত থাকা সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে ভান্ডারিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা বিমান থেকে লাশবাহি কফিন উদ্ধার করে ফায়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি গোল বুনিয়ায় নিয়ে যায় বলে জানান, টহলরত সেনা সদস্য মতিউল ইসলাম।

মতিউল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলামের হার্টের রোগ ছিল বলে তিনি শুনেছেন। এসময় তাদের সহায়তা করার জন্য ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই)মো.কামরুল ইসলামের নের্তৃত্বে থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাদ জুমা সেনা সদস্যদের অপর একটি টিমের ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল জলিলের নের্তৃত্বে সালাম প্রদর্শণ শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সহকর্মীর লাশ তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাহা উদ্দিন বাদল তালুকদার জানান, তিন সন্তানের জনক মো. শহিদুল ইসলাম চট্রগ্রাম সেনা নিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার ব্রেন টিউমার ধরা পরে। আনুমানিক দুই মাস পূর্বে ঢাকা সিএইচএমএ ভর্তি করার পর সেটি অপারেশন করা হয়। তারপর কিছু দিন সুস্থ্য থাকে। গত কয়েকদিন আগে অপারেশন স্থলে ইনফেকসন ধরা পড়ায় অসুস্থ্য হলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে জানানো হয়। অন্যদিকে মৃত সন্তানের কফিনের পাশে নির্বাক অবস্থায় বিমানে আসেন পিতা এমাদুল হক বাদশা। শহিদুলের মৃত্যুতে পরিবারে এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here