চরফ্যাসন সরকারি কলেজের সম্মান ১ম বর্ষের ছাত্রী অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে ২৪ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ । চরফ্যাসন থানায় দায়ের করা অপহরন মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামীদের হুমকিকে ধামকিতে নিরাপ্তাহীনতায় রয়েছে অপহৃত কলেজ ছাত্রীর পরিবার। আসামীদের সাথে পুলিশের সখ্যতার কারণেই জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের কোন আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার। গত ১৬ নভেম্বর চরফ্যাসন সরকারি কলেজের পশ্চিম পাশের সড়ক থেকে দিপংকর শীলের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত জ্যোতি মজুমদারকে বলপ্রয়োগ করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এই ঘটনায় ১৯ নভেম্বর জ্যোতির বাবা বিজন মজুমদার চরফ্যাসন থানায় অপহরণ মামলা করেন।

বিজন মজুমদার অভিযোগ করেন, মেয়ে অপহরণের পর গত ১৯ নভেম্বর তিনি চরফ্যাসন থানায় দিপংকরসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার কিংবা আসামী গ্রেফতারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আসামীদের সাথে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক হারুন অর রশিদের সাথে নিয়মিত আসামীদের যোগাযোগের ফলে নানান কাজের অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ চুপচাপ বসে থাকে। নিরুপায় হয়ে বিজন মজুমদার গত ১ নভেম্বর জেলা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে জ্যোতিকে উদ্ধারে পুলিশের অনীহার বিষয়টি অবগত করেন। পুলিশ সুপার জ্যোতিকে উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দু’জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও পুলিশ সুপারের দেয়া নির্দেশনাগুলো কার্যকর করেনি বলেও বিজন মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাদি আরো অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে দিপংকর এবং তার লোকজন মোবাইল ফোনে এবং ফেইজবুকে স্ট্যাটার্স দিয়ে নিয়মিত তাকে হুমকী ধামকী দিচ্ছে। হুমকী দেয়া এসব মোবাইল নাম্বারগুলো তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে। কিন্ত গত ২৪ দিনেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জ্যোতির অবস্থান কিংবা আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য এসব নিয়ে কোন কাজই করেননি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিত আসামীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। আসামীদের সাথে পুলিশের যোগাযোগের কারণে অপহৃত জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধারে আপদতঃ কোন আশাই করতে পারছেন না ভিক্টিমের পরিবার। আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি ধামকি অব্যহত রয়েছে। আসামীদের হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতার রয়েছে তাদের পরিবার ।

বাদির অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানান, ঘটনার পর থেকে জ্যোতি মজুমদারের ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তবে জ্যোতি মজুমদারসহ আসামীদের অবস্থান ঢাকায় নিশ্চিত করা গেছে। কিন্ত সন্দেহভাজান দুই আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এজাহারভূক্ত সব আসামী হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। জ্যোতি মজুমদারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here